Header Ads Widget

এখন পড়বেন

6/recent/ticker-posts

সহজ হয়ে থাকতো যে লোক, আপনভোলা

শীতের শেষ রোদ্দুর চলে গেলো, পলেস্তারা খসে পড়া এক আশ্চর্য বহুতলের পাশ ঘেঁষে।
ছাতে তখন ঘুড়ি ওড়ানোর মেজাজ…
মাঝবয়েসী এক ঘুড়িওলা ঠায় দৃষ্টি রেখে তাকিয়ে আছে ডিসেম্বরের আকাশে।
ঘুড়ি লাট খাচ্ছে। গোত্তা মেরে ঘুরে চলেছে অনবরত—ঘুরেই চলেছে।
সাঁই সাঁই শব্দে কচিকাঁচাদের হাতের লাটাই দৌড়াচ্ছে।
ঘুড়িওলা চেঁচিয়ে উঠলো—
“ভো কাট্টা… ভো কাট্টা…”
কেটে যাওয়া ঘুড়িটি যেন অদ্ভুত মুগ্ধতা নিয়ে দুলতে দুলতে মিলিয়ে যাচ্ছে দূরে।
এমন কত তাকিয়ে থাকা, কত বন্ধুত্বময় অবসর ফেলে চলে গেলো কেউ।
সে কি আমার পরম আত্মীয়?
এত হাহাকার লাগছে কেন?
অমন শিশুর মতো হাসতে পারা, বাচ্চাদের মতো সহজীয়া মানুষ তো এখন ফুরোতে বসেছে প্রায়।
আমাদের পঞ্চানন্দ তলার দোকানটা তো একা হয়ে গেলো খুব।
কেন এমন হয় ঈশ্বর?
সেই যে বহুদিন পরে দেখা হলে, মুখে একগাল হাসি রেখে সামনে এসে বলে—
“পাপাই, ৫ টাকা দে…”
অনেক দিন টাকাপয়সা দিচ্ছিস না—
সে সব আর কে বলবে?
কিছু মানুষকে এমনিই ভালো লাগে।
সে যেন সন্ধ্যের বাতাসের মতোই ফুরফুরে।
তার আর ফুরিয়ে যাওয়া নেই।
তার কাছে বসে একটু গল্প করলেই মন শান্ত হয়ে যায়।
সে বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবো।
বেশ ভয় লাগছে।
উদাস ও বিষন্ন মনে, গলায় গামছা ঝুলিয়ে, খালি গায়ে এসে বসেছি দোকানের রোয়াকে।
সামনেই ভ্রমর মামা বসে আছে।
আমায় দেখে বললো—
— “ভাগ্নে, How are you?”
আমি বললুম, fine।
— “সব ঠিক হয়ে যাবে। মনখারাপ করিস না।”
তারপর সময়–অসময়ে কত ইংরেজি শিখেছি তাঁর কাছে।
এমন সহজাত শিক্ষক খুব কম আছেন আমাদের বাঁটুল গ্রামে।
ইংরেজি বিষয়ে তাঁর অবাধ বিচরণ—মনে থাকার মতো।
কিছুদিন আগেও মামারবাড়ি গিয়েছিলুম।
“মিস্টার পণ্ডিত” বলে ডাকতেই সেই চেনা শব্দের উল্লাস—
“ভাগ্নে… বহুদিন পরে এলি!”
সেই যে শেষ দেখা হবে, ভাবিনি।
এত তাড়াতাড়ি পালিয়ে গেলে, মিস্টার পণ্ডিত!
আমাদের দোকানের রোয়াকটা খালি হয়ে গেলো যে।
আমার ভালো লাগার মানুষগুলো কেমন যেন ফুরে যাচ্ছে…
এখনো সেই হাহুতাশ করা দুপুর।
শীত পালানোর আগের তীব্র রোদ্দুর…
কেউ কি আমার পাশেই ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে কিছু বলছে?
দূর থেকে, পুকুরের পারের রাস্তার উল্টোদিকের পলেস্তারা খসে পড়া মস্ত বাড়িটার নীচে দাঁড়িয়ে কেউ ডাকছে আমায়—
“পাপাই, আয়… একটু গল্প করি…”

সৌম্য সুজন
৩১,০১,২০২৬

Post a Comment

0 Comments