হলদে রঙের গাড়ি
By Soummosujan
শহরে সমস্ত লোকাল কল ফ্রি। উঠেগেছে STD বুথ, কাঁচের দর্জা ঠেলে নম্বর টিপে প্রিয় জনের প্রতিক্ষা'র অবসান ঘটেছে বেশ কিছুদিন আগেই...
নেই প্রিয় রিসিভার। নেই সেই ডায়েরী'ও; যাতে যত্ন করে লেখা আছে বাবা'র আপিসে'র নম্বর।
চশমার ফ্রেম সব আবার কেমন ফিরেছে এস ডি বর্মন স্টাইলে আর ট্রাম হয়ে যাচ্ছে শপিং মল।
উন্নত তৈজসে বাঙালী ভুলতে বসেছে TAXI লেখা হলুদ অ্যমবাসাডর। যার একটি নসট্যালজিক বহর এ শহর পিপাসু দের হৃদয়ে। সেই অধ্যায় ও বৃদ্ধ বলে ঘোষিত হতেচলেছে...
হাত বাড়িয়ে ট্যাক্সি বলে চেঁচিয়ে ওঠা মানুষ এখন মুঠো ফোন ধরে কিনেনেয় শীতলতা। পশ্চিমবঙ্গে জন্ম এই গড়ি কোম্পানি'ও খতম। খিদিরপুর, চৌরাস্তা, সখেরবাজার বা বাবুঘাট বৃষ্টি দিনে'র পাঁপড় ভাজা আর জানলা দিয়ে হাত বাড়িয়ে খামোখা ভিজে যাওয়ার দিন আহা যেনো প্রজাপতি ওড়া প্রেমের হাওয়াই চটি... আর মিটারে উঠে যাওয়া লাল রঙে ২৫ টাকা। দুপুরে ফুটপাথে দরাজ ঘুম। চালকের কাঁধে একপিস গামছা। চোখ কচলে ময়দান...... ট্রাফিকে আটকে পড়লে কেমন ঘোর লেগে যায়। গভীর রাতে'ও শহুরে হাওয়া'য় সে ছুটে যায় খোকন বাঁড়ুজ্যে'র বাড়ি। গিয়ে ফুচু নামের মেয়েটিকে দেখে আপন মনে.... পয়লা দার পান গুমটি তখন তালামারা। দোকানের টিনে'র চালে গুঁজে রেখে আসে সে কাঁপা হাতের লেখায় কিছু শব্দ। ফুচু সে ঠিকানা যানে সকালে পড়ে বাড়ি ফেরার পথে পয়লা দা সেটি তার হাতে দিয়ে দেয়। বিকেলে স্কুল থেকে ফেরার পথে মাঝ রাস্তায় ধপাস করে থেমে যায় হলুদ প্রজাপতি। WB-15-8765 নম্বর চিনে ফুচু উঠে পড়ে। তার পর কালো ধোঁয়া ছেড়ে গড়-গড় শব্দ তুলে হারিয়ে যায় বাগবাজারে'র ঘাটে......
ধুস্ এতো ওদের প্রেমের কথা, আমিও প্রেম করি। তার সাথে! যে হলদে ট্যাক্সি দেখলেই ব্যাস সোওওওজা নন্দন বা রাসবিহারী'র আলুর দমে জমে যায় দমাদম। সেও চিঠি দেয় ফুচু'র মতো। আমি তাকে যত্ন করে রাখি আর হামেশাই স্বপন দেখি; এই হলদে রাজপুত্তুর ক্যাব নামের মিছরি'র ছুরি কে টেক্কা দিয়ে আমাদের নিয়ে যায় ঝুপ করে সন্ধে নামা কলকাতা'য়.......
![]() |
| Yellow taxi |

0 Comments