Header Ads Widget

এখন পড়বেন

6/recent/ticker-posts

আফসর আহমেদ | বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক, বাগনান এ থাকতেন

প্রতিবিম্ব ও সূর্যদয়

_____________________


কদিন টিউশনির চাপানউতোর ফেলে এক ছুট্টে চললুম নন্দন।  বন্ধুর সহযোগিতায় গিয়ে উঠলুম পশ্চিম বঙ্গ বাংলা একাডেমির চৌকাঠে....তাকিয়ে দেখলুম একরাস হাসি। তিনি বললেন ''তোরা এসেই ছাড়লি তবে'' গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলুম মঞ্চের সামনে হাতটা কেমন ঠাণ্ডা হয়েগেছিলো। সেদিন বুঝতেই পারিনি আফসার কাকু এতো বড়ো লেখক৷  সেদিনটা ছিলো তাঁর বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়ার দিন৷  পাশে বসে আছেন বিশিষ্ট সব লেখক, ব্রাত্যজন। সেই প্রথম চোখে দেখলুম সৈয়দ মস্তাফা সিজার কে। ঘোষক শব্দ করলেন এবারের একাডেমি পুরস্কার পাচ্ছেন... 

আফসর আহমেদ৷ হাওড়ার বাগনানে এমন এক ধুরন্ধর লেখক'কে কাছে পেয়ে স্নেহ পেয়ে তাঁর বাড়িতে আড্ডা দিয়ে দিন কাটবে ভাবতে পারিনি৷ আমরা তখন পুরো দমে লিটিলম্যাগ এ ব্যস্ত।  রানা সম্পাদক। পত্রিকা পাপড়ি। সেদিনও মুখে একগাল হাসি নিয়ে তিনি বলেছিলেন তোরা পারবি৷ লেখা চাইতে গেলে তিনি খালি হাতে ফেরাতেন না আমাদের। মেয়ে কুসুম কে ডেকে বলতেন এদের ফল কেটে দে। না সেদিন ও আমরা পেট পুরে ভোজ সেরে আসতুম। আমি ওপার বাংলার হিমুর বরাবরই ভক্ত ছিলুম।  আমার মতো এমন অনেক পাঠকও আছে ওনার। কিন্তু এপার বাংলায় সয়ং আমার পাড়ায় এমন এক মানুষ কে পাবো যিনি হিমুর চেয়ে এক অংশেও কম যান না, ভাবতে পারিনি। একদিন বিকেলে পড়াতে গেলুম ছাত্রীর বাড়িতে এবং তার পাঠ্যবইতে হঠাৎ করেই দেখি আফসর কাকুর একটি কবিতা৷ লেখাটি পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলুম। আহা সে যে কিসুখ! পড়ানো শেষ হলে পর ঝট্ করে উঠে পড়লুম সাইকেলে তারপর বাগনান কলেজ ছাড়িয়ে হেতমপুর এর রাস্তা ছাড়িয়ে সোজা....আফসর কাকুর বাড়ি। বাড়ির সামনে বৃষ্টির জল জমে থাকতো। আমায় একটু দুরেই সাইকেলটা রাখতে হয়েছিলো। তারপর প্যন্ট ভিজিয়ে কোনোরকুমে ঢুকলুম বাড়িতে চেয়েদেখি অনাবিল মুগ্ধতায় বিড়ি হাতে তিনি বসে আছেন একটি চেয়ারে সামনে কিছু ছড়ানো ছিটানো বই.... পরনে লুঙ্গি আর একটি বয়েস কালিন পাঞ্জাবী। অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। আমায় হঠাৎ দেখে তিনি বললেন সৌম্য কি ব্যপার। আমি হাঘরের মতো বলেউঠলুম কাকু আজকে দেখি আমার ছাত্রীর বই তে আপনার লেখা কবিতা! তিনি হাসলেন স-মহিমায় ! আমায় বসতে দিয়ে তিনি লিখে চললেন "কিসসা সমগ্র".. মাঝে মাঝে আমায় বোঝালেন এই দ্রুত রদবদল সময়ে আমাদের মনন এখনো আলমোড়া ভাঙে বেমুচকুল আর বষ্টমীর মিঠে সুর তালে...তারপর বিড়িতে একটা টান আবার বলে চললেন  জানলার গ্রিলের ফাঁকদিয়ে দেখা যায় ধূ-ধূ ধানজমি...চারিদিকটা সবুজ গালিচায় মোড়া। ইলেক্ট্রিকের তারে বসে থাকা এক নীল মাছরাঙা..আঙুল তুলে বললো দেখো পাখিটা কিন্তু বেশ চুপচাপ তবে ওর লেজটা কিন্তু অনবরত দোলা খাচ্ছে একই রকুম তালে এটা ওর অভিনয় নয়। ওখানে সামান্য সময় টুকুর সমতা বজায় রাখা৷ আমরাও তেমনই! বলে লেখায় মন দিলেন। ইতিমধ্যেই ওনার বাড়ির কেউ এলেন হাজির হলো চা আর বিস্কুট।  কেমন এক সরল ভঙ্গিতে তিনি কামড় দিলেন বিস্কুটে মনে হলো আরে এইতো আমার কাছেই তো হিমু৷  সেই পুফির মতো বিড়ালটাকে আগলে রেখেছেন যত্ন করে।  আমরা যা দেখেই উঠতে পারিনি এতোদিন। তিনি যখন কবিতা বাসরে আসতেন তখন আমরাও যোগ দিতুম। কথা শুনতুম। মনেমনে খুব গরজ হতো। আমার পাড়ায় থাকেন..... যখন ওনার লেখা   কিছুটা পড়ে, তৈরি হলো ভালোলাগা তখন বেশ কিছু গল্প হানা দিলো আমার মাটির ঘরের ধূলোওড়া বুক সেল্ফ এ।


 এমন স্মৃতিমেদুর হল্লারাজার দিন। তুমি আবার ফিরে এসো। আমরা জটলা করবো বন্ধুসমরে। আমিও চেয়ে দেখবো পূব আকাশ টা যেনো বেশ্যা মায়ের মতো রাঙিয়ে দিয়েছে সূর্যাস্তের দানা৷ ইলেক্ট্রিকের তারে বসা নীল পাখিটি অনবরত এক মিঠে ভঙ্গিতে লেজ দোলাচ্ছে...আর আফসর আহমেদ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে  দিচ্ছেন কালো ঘোড়াটিকে.... যে ঘাসমুখে অনবরত দৌড়োচ্ছে বাদাম ভাঙা পথে....

গাঁয়ের মেঠো রাস্তার পাশ ধরে ট্রেন চলে যাচ্ছে  ঝিক্ ঝিক্ ঝিক্ ঝিক্ শব্দ তুলে....


          .......................© সৌম্য সুজন


★★প্রবাদ প্রতিম  লেখক আফসর আহমেদ (একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক) ওনাকে পড়ুন |  উনি  হিজলোক এর পর বাগনান এ থাকতেন

         



আফসর আহমেদ
         

Post a Comment

0 Comments