Header Ads Widget

এখন পড়বেন

6/recent/ticker-posts

চলতি | ধারাবাহিক | জীবন ও মানুষের পাঁচালী | পরবর্তী পর্ব

কাল রাতে বেশ ঝড় বৃষ্টি হল। রাত প্রায় ৯:৩০ হবে, আমি তখন টালিগঞ্জ স্টেশনে দাঁড়িয়ে। ৯টা বেজে ৩৪ মিনিট নাগাদ ডাউন বজবজ লোকাল ঢুকল। আর সে মুহুর্তেই প্রচন্ড দমকা হাওয়া যেন প্রাণ জুড়িয়ে দিল। প্লাটফর্ম এ থাকা সব্বাই হইহই করে চেঁচিয়ে উঠলেন। যেন বৈশাখী শুরুর ঝঞ্ঝায় জীবনে আালাদাই ঝনঝনানি।  

ট্রেনে উঠেপড়লাম কোনোক্রমে। ভীড় ঠেলে জেনারেলে ওঠা গেল না। অগত্যা ভেন্ডারে। উঠে দেখলাম আলাদাই মেজাজ সব। চলছে তাস চলছে বৃষ্টি স্নাত হইহই আড্ডা আর সাথে গঞ্জিকার গঞ্জনা।  

ডিসপ্লেতে ফেসবুকীয় রিলস্ বেজে উঠলো " রঞ্জনা আমি আর আসব না " মাঝ বয়েসী ছেলেটি জিব বারকরে সাথে সাথে স্ক্রোল করলো। কারণ টা বুঝলুম ঝুমা বৌদির কড়া ভিডিও চলে এসেছিল বুঝি। 

ঝমঝমে বৃষ্টি, সঙ্গে হাওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে ট্রেন ছুটছে ওয়েস্ট সাবরবান ... 

এক কাকা আমার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকক্ষণ উসখুস করার পর, একটা বিড়ি ধরিয়ে কড়া টান দিলেন। ফোস্ করে ধোঁয়া ছাড়লেন মুখ দিয়ে। সে ধোঁয়া একরাশ বিষন্নতা ও ক্লান্তি নিয়ে মিলিয়ে গেল ফেরার হাওয়ায়।  

- ভাই আমাকে একটা কথা বলো
- কি? 
- এই মোল্লা গুল যেন মহা বাড় বেড়েছে আজকাল। একদম শৃঙ্খলা বোধ শেখেনি। 
- কেন কি হল? 
- এই তো পার্কসার্কাস এ যখন ট্রেন টা ঢুকল, একদল অবাঙালি মুসলিম ছোকরা দেখলুম ইস্টিশনে ভীড় করে দাঁড়িয়ে ছিল। ট্রেন টা ছাড়তেই দরজার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আমার বয়েসি এক ভদ্র লোক, হঠাৎ তাকে এক চড় মেরে পালিয়ে গেলো ছকরা গুল।  আবার কি উদ্দাম হাসি গো তাদের। 

- বলেন কি! 
-হ্যা, ট্রেন ততক্ষণে ভালোই গতি নিয়েছে। আর করার কিছুই ছিল না। 

এসব শুনে বেশ খারাপ লাগছিল।  কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম। তারপর কাকা নেমে গেলেন সন্তোষপুরে। আমিও বিষন্নমনে স্পটিফাই খুললাম গান শুনব বলে। আচমকাই বেজেউঠল "আব কে হম বিচড়ে তো শায়েদ" মেহেদি হাসান।  মনখারাপ কে স্বস্তি দিল এই মজলিশি দরদ। 

- সৌম্য সুজন

                  

Post a Comment

0 Comments