Header Ads Widget

এখন পড়বেন

6/recent/ticker-posts

টেপরেকর্ডার | পর্ব -২

টেপরেকর্ডার | পর্ব -২
______________________


কাশ টা তখনও মেঘে ঢাকা, দূরে ওটা কিসের আলো?  কেমন চিক্ চিক্ করছে ঐ যে তালগাছ টার ফাঁকদিয়ে আলো টা মিলিয়ে গেলো.. 

বিকেলের দিকে এতো জোরে ঝড় উঠলো, চারিদিক টা কেমন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।  দু- একবার মা কে ডাকলাম, তারপর মনে হল মা তো ঘুটে আনতে গেছে বাদল দের বাড়ি। যদি বৃষ্টি নামে বাড়িফিরতে কষ্ট হবে। এসব ভাবছি আর বেশ ভয় লাগতে শুরু করেছে৷  

এতো কালো মেঘ,  আর বিদুৎ এর আঁকাবাঁকা রেখা যেন কেউ চক্ দিয়ে একটা আঁচড় কাটছে কালো স্লেটের উপর।

বাবা তখন কলকাতা,  আমি, মা আর ভাই।  ছাপোষা সংসার,  তাও সুখ কম ছিলোনা।  দুপুর বেলা মানেই করমচা গাছের ডালে উঠে চার বন্ধুতে গামছায় বেঁধে মুড়ি,আমতেল,চানাচুর ...  আহা বিকেল।  

কিছুক্ষণের মধ্যে সজরে বৃষ্টি নামলো। বুড়ির ভোঁতায় পুরোনো টিনের চালার বাড়িটা থেকে কড়কড় শব্দ আসতে লাগলো। প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে৷  মা তো এখন নেই। কি করা যায়, এসব ভবাতে ভাবতেই সকালের দুটো রুটি থালায় ঢাকা আছে দেখলুম। আর সেই রুটির সাথে একটু চিনি দিয়ে রোল করে মুড়ে সোজা মুখে চালান করেদিলেই ব্যস বাংলার চিনি-রোল।  কি দারুণ সেই স্বাদ।  

বৃষ্টির দাপটে রাস্তায় লাল জলের স্রোত নেমেছে। মোরাম ধুয়ে ধুয়ে জলের এমন রঙ, আর সেই জল আমাদের বড়ো পুকুরে এসে মিশছে।  সাদা জলের পাশে লাল জল।  দারুণ লাগছে দেখতে। 

এই বৃষ্টিতে নাকি মাঝেমাঝে কইমাছ উঠে আসে,  আর সারা পাড়ার লোক চলে আসে আমাদের বড়ো পুকুরের পারে...  কালো কালো কাপড়ের বড়ো ছাতা,  হাতে একটা পুরোনো কাপড়ের ব্যগ, 

মাঝেমধ্যেই খড়মড় শব্দে দুলে ওঠে। নাহ্ আমার বিশ্বাস এক্কেবারে অন্ধ নয়। 

( ক্রমশ )


                                        







Post a Comment

0 Comments