সন্দীপ। ভুল ইংরেজি বলা, কথা আটকে যাওয়া এবং দু-তিনটে বিড়ি একদমে টেনে ফেলা এক বাচাল। বাড়ি মুগকল্যান।
Hobby— আলুভাতে মাখা রুটি খেতে খেতে সাদাকালো টিভি তে মিষ্টার বিন দেখে হো-হো করে হেসে ওঠা..
দৃশ্য - ১
সময় - সন্ধ্যে ৭ টা | ডিসেম্বর | ২০০৮
চারিদিকে গাছপালা ঢাকা একটা পুরোনো বাংলো বাড়ি, ১০০ পাওয়ারের হলুদ বাল্বের আলো। আর শ্যমল স্যরের ইংলিশ কোচিং।
সন্দীপ পড়া শেষ করে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে এল। আমার ছুটি তাই আমি বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম, আমাকে বললো -- ওহ্ কি ঠান্ডা পড়েছেরে ভাই, দে একটা বিড়ি বারকর হালকা পেঁদিয়ে চল পালাই। মুখে সেই ফ্যস ফ্যাসে বাচাল হাসি তবে অনাবিল হাসি, কৃত্রিমতা নেই। অন্ধকারে দেশলাই টা জ্বালিয়ে বিড়িতে সংযোগ করলো। আদিগন্তে একটা সাদা ধৌঁয়ার আস্তরণ, গোলাকার ভাবে উড়তে লাগলো। তারপর সরল ভাবে তাকিয়ে বললো চল.... আজকে লক্ষীর জন্য একটা চিঠি লিখেছি ওটা ওদের জানলা দিয়ে ফেলে দিয়ে তোকে নিয়ে আমাদের বাড়ি যাব।
-চল যাবি?
- চল।
সাইকেল টা অন্ধকার ফেলে সজোরে ছুটছে ... সরু ইটের রাস্তা ধরে, দুপাশে জঙ্গল ফেলে এগিয়ে চলেছে বড়োরাস্তার দিকে।
প্যডেল ঘুরছে খড়মড় শব্দ করে। সন্দীপ বললো ভাই আমাদের একটা টেপরেকর্ডার আছে, কিনবি? ২০০ টাকায় দিয়ে দেব। আর কিছু বাংলা গানের ক্যসেট ও আছে ওটা এমনি দিয়ে দেব। বাবা আর চালাতে পারছেনা রে, কোনো রকুমে চলছে। লক্ষী এসব জানলে আমাকে আর পাত্তা দেবেনা। চল তোকে দেখাই আজকে লক্ষীদের বাড়িটা।
কেমন সহজ সরল ছেলেটা নরম কিছু হাসি ঠোঁটে প্রেমে মশগুল অথচ অনিয়ন্ত্রিত কথা বলেই চলেছে।
অন্ধকার আরো গাঢ় হয়েছে, শীতকাল। রাস্তায় লোকজন কম। জোনাকির মতো সাইকেলের ডায়নামো কখনো জলছে কখনো নিবছে।
-----------
( ক্রমশ)
#টেপরেকর্ডার #ধারাবাহিক

0 Comments