এ ক টি স্ব প্ন
বসন্ত কে আমি চিনি বহুদিন! জেলেপাড়ার রাস্তায় ওকে দেখা যায় খুব। রাঙামাটির পথঘাট ছুঁয়ে পলাশের দিন মিশেছে রূপনারায়ণের বাঁকে! সেখানে সারাদিনের ক্লান্তি রেখে চুপকরে চোখের পাতা এক করেছে কিয়ৎক্ষণ গাঁয়ের ঘুড়ি সাবক! তার কাছে লুটিয়ে দোলা খাচ্ছে প্যটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি...
মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গাবের আঁঠা, ঝাঁটার কাটি, মাঞ্জাদেওয়ার সরঞ্জাম। সাবকটি ঢলেপড়েছে ক্লান্তি ঘুমে! কিছু আগে তার মা ডেকে গেছে... খোকা চাড্ডি ফ্যান ভাত পেঁয়াজ কাঁচা লঙ্কা দিয়ে মেখেছি, খেয়ে যা! দু-চারটে ডিঙি নৌকা দোলখাচ্ছে বসন্তের বাতাসে! রোদ এসে পড়েছে ছেলেটির গালে তেরচাভাবে। আকাশে একঝাঁক বক; সারি সারি উড়ছে...উড়েই চলেছে..
ইস্কুল ফেরা একদল কচিকাঁচা পাখনা দোলানোর ভঙ্গিতে আঙুলগুলো নাড়িয়ে নাড়িয়ে বলছে " বক মামা বক মামা দাগ কেটে যা" আর সাথে সাথেই ওদের আঙুল গুলোর উপরে ঠিক নখের আগায় দাগ হয়ে যাচ্ছে সাদা সাদা, তারা খিলখিলিয়ে হেঁসেউঠতেই আমগাছের অদূরে একটি দোয়েল পাখি! চেঁচিয়ে বললো গ্রেহস্তের খুকি হোক! কতো ফুল কতো ফুল অশোক, জুথি, কাবেরি বন থেকে বনে...কতো মৌমাছি উড়ে বেড়াচ্ছে সেইফুলে আবার মধূ নিয়ে উড়ে যাচ্ছে ডুমুরের ডালে ওখানেই ওদের চাক! সাইকেলের ধুলো উড়িয়ে যাওয়া জেলেদের জাল শুকোতে দেওয়া ভারা আর খৈচু-বাচু-পাতিচু এইসব দেখছে ঘুড়ি সাবক! তার মনে হচ্ছে ঘুড়ির সুতো ধরে উড়ে যাবে ঐ দূরে সাদা-সাদা মেঘের পাড়ায়....ওর চাঁদিয়াল গোঁত্তা মেরে উড়ে যাবে খোকাকে নিয়ে! খোকা উড়ছে উড়বে তুমুল! মা ডাকবে আয় খোকা চানকরে ঘরের ঠাকুর টা একটু পুজো করে তারপর ভাত খাবি! খোকা কইরে আয়....খোকা তখন হাসছে আর মাকে বলছে আমি তো মেঘের বাড়ি যাচ্ছি মা আমার যে চাঁদিয়ালের পিঠ থেকে নামতেই ইচ্ছে করছেনা মা। তুমি খেয়েনাও! আমি পরে খেয়ে নেবো। আর শোনো মা, আমার জন্যে কিছু পলাশকে রেখেদিও ফিরে এসে কাটাকুটি খেলবো তোমার সাথে!!
খোকা ঘুম ছেড়ে উঠেছে.... একটা প্রজাপতি উড়েবেড়াচ্ছে আশেপাশে। রূপনারায়ণের পারে তখন জোয়ারের ঢেউ....ডিঙি নৌকা তখন নোঙর করা ঢেউএর দোলে দোলা খচ্ছে। দুপুরের তেরচা-রাঙা রোদে খোকার মুখচোখ ঘামে ভিজে গেছে। আর আমের ডালের ফাঁক থেকে কিছুক্ষণ আগে ভো-কাট্টা হওয়া চাঁদিয়াল কলকা টুকু বুকে নিয়ে হাওয়ার তালে তালে দুলছে আর বলছে খোকা চল বেরিয়ে পড়ি!
©সৌম্য
0 Comments