নষ্টনীড়ের গানওয়ালা
এই বৃষ্টিস্নাত শহরেই আমাদের সংসার ছিলো। অথচ আমাদের কথা কানাকানি, চেয়ে থাকা ও মন খারাপ সবই কেমন দূরের সূর্যাস্তের মতো মিলিয়ে যেত দূরে...
অথচ বৃষ্টি মহত্তম। দুকূল ছাপিয়ে ভাসিয়ে দিতো লোনা দেওয়াল, চুঁইয়ে জল নামতো ঘরের চাল থেকে।
অথচ তোমার মুখে কোনো শব্দ নেই, চোখ অনবরত তাকিয়ে আছে দুর্বিষহ মেঘে, বাজ পড়ার শব্দে তোমার ভয় করছে। ভয়।
কোলকাতার লোক আমাকে এখন নষ্ট পুরুষ বলে বৌঠান। কতো বই উঁকিমারে, কতো কথা রটে বেড়ায় বোবা হাওয়ায়।
তোমার মৃত্যুর পর এই প্রথম আমরা মুখোমুখি। একটু কাছাকাছি এসো। বসি কিয়ৎক্ষণ। তারপর নাহয় গান শোনাবো৷
আমি ভালোআছি বৌঠান৷ তুমি কেমন ?
এই দেখো; আবার কতো কথা বলেচলেছি।
তোমার কি সত্যিই সে সব মনে আছে, আজও কি আমাকেই সে দিনের মূর্ছনায় বেঁধে রেখেছো হে বাদলধারা!
জানি ক্ষমাসুন্দরী তুমি। খেলাবেলার দিন সব তোমায় দিয়েছি প্রিয়।
আমায় নষ্ট বলুক ওরা। আমায় বিদ্ধ করুক আরো।
সেদিন বৃষ্টিপাত। তোমার জন্মদিনের গোলাপখানা এখন কোথায় আছে বৌঠান? সুযোগ পেয়েছি আবার। ওরা না জানলেও আমরা তো জানি। এই হৃদয়ের সমস্তটা আসলেই শুধু কাছাকাছি সহজ করে থাকা। আরও নিবিড় , নতুন।
বৌঠান আজ ২৫ শে বৈশাখ। বড়ো দুঃসময়। ওরা আমাকে চাইছে অনবরত দুঃখে, ভয়ে, বিয়োগে, ব্যথায়। আমি সাহস দিতে চাই ওদের। আমি গান শুনিয়ে জাগিয়ে রাখতে চাই দুখোজাগানীয়া।
অথচ কেউ নিন্দে করলে শুকনো পাতায় বাঁশি বাজিয়ে চলেছে কিনুগোয়ালা।
আমি বাঁশি শুনেছি তার। চোখে না দেখেও মিশে গেছি অহরহ।
সন্ধ্যের আজান মনে হচ্ছে ভৈরবী তান।
অথচ কথা আছে। তাই তোমাতেই ফিরে ফিরে যাই।
সৌম্য সুজন | বৈশাখ ২৫ | ১৪২৮
0 Comments