Header Ads Widget

এখন পড়বেন

6/recent/ticker-posts

সিনেমাটি আমার মানুষের দুঃখ ও কষ্টের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করার একটি মাধ্যম | জন্মদিনে ঋত্বিক

একটি তারার রাজ্য থেকে তাকিয়ে থাকছি, চোখ আর স্রোতে গা ভাসিয়ে তাকিয়ে থাকছি, সীমাহীন দুঃখের একটি নদী তীর তরী করে বয়ে চলেছে, আমি তাকে তিতাস বলে ডাকি! দুপাশে পাড় ধরে ছড়িয়ে আছে.. অসংগতি পরা বাস্তব মুখ,আর তীব্র সুরে মূর্ছিত হচ্ছে দেশ ভাগের যন্ত্রণা


                                                                                                
কতো মানুষ পড়ে আছে অন্ধকারে, কতো আবেগ আর হৃদয় স্পর্শকাতর কিছু অধ্যায় বুকে অযান্ত্রিক থেমে গেছে অনিবার্য স্টেশনে। 

তবুও একটা মানুষ চশমার কাঁচে আটকে রাখছে মুহুর্ত!  সেলুলয়েড এ নিপুন ভাবে ফুটিয়ে তুলছেন প্রতিবাদের সুর! 

সিনেমা হল জুড়ে অন্ধকার নেমেছে, ঢাকা শহর থেকে উঠে আসা একটি বাংলা মদের প্রেমিক একটি বিড়ি খোর তুখোড় বেদনা গ্রস্থ জীবণ তাকিয়ে আছেন স্ক্রিনে... 

মোটা ফ্রেমের চশমা জুড়ে নেমেছে লোনা স্রোত,  ভিজে যাচ্ছে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসনকোসন, তুমুল আর্তনাদ.... মাঝে কারা যেন আটকে দিচ্ছে কাঁটাতারের জঙ্গল, ফুরফুরে দিন কেটেযাওয়া মানুষ গুলো পদ্মার কাছে এসে থেমেছে। একটু পরেই রব উঠবে পালাও পালাও.... তখন, ও পার টা ক্রমশ দূর থেকে আরো দূরে সরে যাবে। চোখের পলক ফেলতে ফেলতেই চাষের জমি, ধানের গোলা, মন্দীর,  গোয়ালঘর আর বাস্তুভিটে হয়ে যাবে অন্যদেশ, আমরা ছড়িয়ে পড়বো অসংলগ্ন ভীনদেশী হয়ে।




একটা রক্ত-মাংসের শরীর আর একটা যন্ত্রের অদ্ভুত প্রেম! কখনো খুশি হয়ে হেসে ওঠার শব্দ, আবার কখনো মানুষের মতোই ব্যথায় মুচড়ে পড়ে, আবার সেই শব্দই কখনো হারিয়ে যায়। হারিয়ে যায় নিপিড়ীত নিরীহ মানুষের ভীড়ে।

আলগা হয়ে আসে বাঁধন। ছেড়ে পালাতে চাইলেও কোথাও একটা না পালানোর আর্তি, লড়াই টা হেরে যাওয়ার নয়, তাই পর্দার উপরে আলো জ্বলে উঠছে...

মানুষ কেই শুনতে হচ্ছে মানুষের আর্তনাদ, "দাদা আমি বাঁচতে চাই" কি অদ্ভুত ভাবে সব কিছুই মিলে যাচ্ছে।  যা দেখানোর কথা ছিলো, যেভাবে বললে মনের ব্যথা জুড়োয়, ঠিক সেভাবেই, হ্যা সেভাবেই অন্ধকারে ফুটে উঠছে সব টুকু।  আমাকে ছেড়ে যাচ্ছে বিকেল অথবা গোধূলীর ধূসরতা,  আমি দেখছি তবু যদি একটা পাখা রেখে যাও তুমি,
-তুমি বললে পাখা রাখা যাবে না, আবার তো মদ গিলবে।
নিয়ে যাও, সব নিয়ে চলে যাও...

আমি নৈশব্দ কে ভালোবাসি, আর ভালোবাসি বেতাল নেশায় ভরকরে এ সভ্যতার কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে!

-আর কতো দিন? আর কবে? কালো ফ্রেমের চশমা আর বাংলা মদ ছাড়া ঋত্বিক কে চিনতে পারবে?
                                                   

©Soummo sujan


   

                                                          


Post a Comment

0 Comments