পৃ থি বী র চাঁ দ | আকাশ কে মনেরাখে
© সৌম্য সুজন
আমাকে লেখায় পেলো। অদ্ভুত ভাবে আমি নেশা করছি! আমি হারিয়ে যাচ্ছি এই পড়ন্ত বেলার লেপ কাঁথায়, এলোমেলো রোদেলা মধ্যবিত্ত'র শীতে। ছায়া কুড়োনো মায়াময় আমার সংসার; গাছপাতা ভুঁইলোটোন সন্ধের আজান আর শাঁখে...
বলোতো! প্রিয়তমা, ঠোঁটের উপর ঠোঁট রাখা কি সত্যিই কঠিন? খুব দুঃসাহসিক ছোঁয়া? ঠোঁটেরও তো বয়েস বাড়ে, ঝুঁকে পড়ে প্রত্যেকটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মতো! কিন্তু মন! তারতো বয়েস বলে কিচ্ছু হয়না। কিচ্ছুটি না। চলো না সেখানেই আমরা আলিঙ্গন করি। চুমু শব্দ কে ঠোঁটে প্রত্যাহার করে হৃদয়ে রাখি।
আমি প্রিতিদিন'ই ঘরে ফিরি অফিস নামের কংক্রিট ভীড়, ভগ্নটে অবয়বে, কর্পোরেটের গনগনে আঁচে আমি পুড়ে ছারখার হই। তবু ফিরি। রাস্তা টা আমাকে উদ্বাস্তু করেদেয়। রোজগার আমার ক্রমবর্ধমান গতি কে কমিয়ে আনে। আমি উন্মাদ হয়ে সরলরেখা দেখি। দেখি ওরা বেলুন বিক্রি করছে। ওরা রুটি করছে কয়লা ভাঙা কালো হাতে। ওরা শব্দ করছে। হাসছে। গান করছে.....
আমার রাত গুলো কাটে হারিয়ে যাবো ভেবে ভেবে। দূরের বাঁকের রাস্তাগুলো যেমন আচমকাই মিলিয়ে যায়... আবঝা হয়ে যায় চশমার ফ্যকাসে আলো...আমি দেখি ঐ তো আমার স্নানের জলে নিমপাতা... সূর্যের আলো এসে পড়েছে তাতে, আর সে আলো জল ছুঁয়ে দুলেদুলে আলোকিত করছে টালির চাল। বর্ণপরিচয় আর ঘুলঘুলি। আকাশে সাদা মেঘে আমি নানারকম মুখ খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমি শহর ভাবলেই মিনিবাসের জানলা অথবা বেসুরের খালি গলার গান শুনছি। অথবা ঝিমঝিমে দুপুরের ধিরগতির ট্রাম। বলো এসব কি প্রেম নয়!! আমি এখনো প্রতিটা রাত জেগে থাকি৷ ঘুমাবনা ভেবে। সকালের অফিস ডুব মারবো! অথবা ঠিকসময় পৌঁছাবো না বলে। অথবা সময় নিয়ে একটা সিগারেট ধরাবো বলে।
বিশ্বাস করো!! আমি পাহাড় দেখিনি কখনো। প্রথম সমুদ্র দেখেছি মা এর সাথে.... আর পাহাড় টা অবশ্যই তুই!!
এই তুই শব্দটাও আসলে কম রোজগেরে মানুষের জীবনে ছবি করার স্বপনের মতো। তাই তাকে আমি তুই করে ডাকতে সাচ্ছন্দ্য বোধকরি। আর আমি! আমার আশপাশ কানাকানি... মন খারাপ, চশমা মুছেফেলা লোকটা অথবা একলা! প্রেমিকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে সাবলীলভাবে দেখেযাই। সিনেমা দেখি। রোজ। প্রতিদিনই। আর মাঝে মাঝেই একটা গান এসে দোলা দেয়....
"স্বপন যদি মধূর এমন, হোক সে মিছে কল্পনা!
আমায় জাগিয়োনা। আমায় জাগিয়োনা।"
........................

0 Comments