Header Ads Widget

এখন পড়বেন

6/recent/ticker-posts

উপবনে

|| উপবনে ||

এক.

মাঝবয়েসী একটি শীতের জন্মদিলো বাঁশ পাতারা।  অক্টোবর। দূরে রূপনারায়ণের বাঁকে ধোঁয়াটে মালা ঢেকে রেখেছে আকাশটা। তারই কিছু রঙ ছুঁয়ে আছে কাশবন।  ডানা মেলে দলবুনছে সাদা বক। হোগলা বনের পাশেই চাষিদের আস্তিন, তারা ভাত রাঁধছে, শিলের উপর বাটা পোস্তো ছোট্টো বাটিতে লঙ্কার বাটা; আর তারও পাশে ঝুলে ভরা লণ্ঠনের ঝিমিঝিমি আলো। 


পথের পাশ বরাবর সার সার কৃষ্ণচূড়ার বন, মুশকিল চাচা খড় বাঁধছেন,  পাশে বেশ খনিকটা মাটি মাখা আছে প্রথমে সিংহ তারপর অষুর আর সবশেষে দুগ্গি বুড়ির কাঠামোয় সে মাটি লেপন হবে। 

সামনেই তারিনি জেলে রেডিওতে চালিয়েছেন জোটিলেশ্বর... "ও সজন হায়, তোমার মতো সুজন কজন আছে"...

সেই সুরেই যেন আলো মেখে দোলা খেয়ে যাচ্ছে শরৎ এর উপবন। 

তারিনি সারাদিন জাল বোনে,  সকালে ঘরোয়া চালের মুড়ি আর দুটো বেগুনি খায়। দুপুরে বৌ রেখে গেছে ডাঁটার তরকারি আলুর চোখা আর খয়রা মাছের টক। সময়ে অসমে মুশকিল চাচা তারিনির কাছে আসেন সামান্য গল্প জুড়তে সাথে  বিড়ি সহযোগে ক্লান্তি দুর করতে। 

এই শীতচুপচুপে সকাল তখন হয়ে ওঠে বকুল তলার উৎসব৷ কিছুদিন পরেই পুজো, হাটের পথে মানুষের ঢল নেমেছে। মাটির পালকি, মুড়ি ভাজা খোলা, ধান সিদ্ধর হাঁড়ি সে নানান পসরা। 


তাহাদের উষ্ণতার কাছে সরু বাঁকা গোলি,  ছইয়ের আস্তাবলে কারা যেন সুখী সুখী মন..

ভোরের স্নিগ্ধতায় গা এলিয়ে দোলাখায় দোলোন চাঁপা,  দেবদারু, ডালচিনির বোন।

                      

 ©সৌম্য সুজন

Post a Comment

0 Comments