গাছ পাতা বৃষ্টি
____________________
❝এই বড়ো বউ, বউমা কবে এসবে? বড়ো বেটা তো লিয়েই এলোনি বৌমা কে। কবে দেখাবি রে? ছেনা টা লুকি লুকি বিয়ে করে লিলো আর বৌ দেখালোনি। ❞
বুলার মা। এই গ্রামের ভাষায় কথা বলা মানুষ টি আমার পছন্দের ছিলেন। সারাদিন ছুটোছুটি করে কেটে যেত। কখোনো চুপ করে বসে থাকতে দেখিনি। ঝড়, জল মাথায় নিয়েই দেখেছি তাকে বেরিয়ে পড়তে। একটা চটের ব্যগ বা থলে বগল দাবা করে ভোর ৪ টে থেকে শুরু হতো তার সফর। ধান বওয়া পানা কাটা, তাল কুড়ানো, নারকেল, খেঁজুর আরো কতো কি...
সময় অসময়ে মাঝেমাঝে বাড়ি এলে আমার সাথে দেখা হত। কানে কম শোনার সুবাদে অনেকে তাকে নিয়ে ঠাট্টার আসর জুড়ত, তবে পাড়াড় সুপারহিট শাশুড়ি যদি কেউ থকতেন তা হলে বুলার মা এক নম্বরে। এই তো কিছু দিন আগেই বাড়ি গিয়েছিলাম। সেদিনও বেশ বৃষ্টি পড়ছিলো। বাইক নিয়ে গঙ্গা পেরিয়ে কাক ভেজা হয়ে গিয়ে ছিলুম বাড়ি। বাড়ির মুখটাতেই দেখা বুলার মায়ের সাথে অমনি মুখে এক গাল হাসি, আমাকে হাতে দুটো খেঁজুর দিয়ে বললো - নে, খা।
বৌমা এসেনি? নাকি লুকিয়ে রেখেচু? লিয়ে এসবি কেনো, সে তো শহরের মেয়ে এখেনে এসবে কেন?
আসলে আমার বৌ কে দেখার খুব ইচ্ছে ছিলো সে স্বাদ হয়তো তার মিটেছে। কিন্তু এর পর যে খটখটে দুপুর অথবা ভোর বেলার বৃষ্টিরা হাহুতাস করবে। বুলার মা যে ঐ দুরে হারিয়ে গেলো। কোথায় গেলো কিজানি৷ সারাদিন তো ঝগড়া করতো পাড়ার লোকের সাথে সারাদিন চেঁচামেচি তে গোটা পাড়া অতিষ্ঠ। কিন্তু সত্যি এ ধরনের মানুষ গুলো ইউনিক। জমিয়ে রাখার ক্ষমতা আছে, বিশ্বাসই হয়না, যে এরাও কখনো ফুড়ুৎ করে পালিয়ে যেতে পারে।
এমন মানুষের খুব প্রয়োজন আছে, প্রয়োজন থাকবে। তাদের কাছে মুঠো ফোনের আসক্তি নেই, নেই টাকাকড়ির বাতিক। শুধু একটু কাঠ পাতা, শুধু একটু গাছের কলা, লেবু তাল, কাঁঠাল আর ঝগড়াঝটি।
ঠাকুমা, সত্যি বলছি তোমাকে ছাড়া পাড়াটা কেমন চুপচাপ হয়ে গেছে। ভোর রাতে অমন বৃষ্টিতে যে সাপ টা তোমায় ছোবোল দিলো সে কি যানতো তোমার চুল এখনো পাকেনি। সেকি জানতো তোমার সিঁথিতে এখনো লাল টুকটুকে সিঁদুর।
উঁচুকরে শাড়ি পরা, আজীবন খলি পায়ে হেটে যাওয়া মানুষ টা শেষবার যেখানে পা রেখেছিলো সেটা ভিজে মাটি ছিলো। তার পা মাটির কাছাকাছি গাছ,পাতা, বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ুক আজীবন।
বুলার মা মিস্ ইউ ❤
_____ সৌম্য সুজন
:
#BularMaa #RIP
0 Comments